সমাজ সংস্কার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমাজ সংস্কার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী উঠিয়ে দেয়া হোক

পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষার দিকে মনযোগী। তাই বেশীরভাগ দেশের সেনাবাহিনী রয়েছে এবং ওসব দেশ তাদের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতির কলকাঠি নাড়ে। কিন্তু অবাক হলেও সত্য যে পৃথিবীর অনেক দেশে সেনাবাহিনী নেই। প্রশ্ন আসতে পারে - ওসব দেশে বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকানোর উপায় কি ? 
উত্তরঃ ঐ দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয়। তারা অন্যান্য দেশের সাথে বিভিন্ন চুক্তি ও আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে। সেই দেশগুলো হল - আইসল্যান্ড, পালাউ, কোস্টারিকা, ভ্যাটিক্যান সিটি, ডোমিনিকা, পানামা ইত্যাদি। জানি এগুলো এত বিখ্যাত দেশ নয়। এসব দেশের নামও হয়ত অনেকে জানে না। কিন্তু এ দেশগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে সেনাবাহিনী ছাড়াও স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব। আমরাও এরকম করতে পারি, সেনাবাহিনী উঠিয়ে দিয়ে ভারত শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া এদের সাথে আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সুনিশ্চিত করতে পারি। সেনাবাহিনীর পিছনে অযথা টাকা নষ্ট না করে অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পারি। যেমন - শিক্ষা খাত, গবেষণা খাত, যুব উন্নয়ণ, বেকার সমস্যা নিরসন ইত্যাদি।
অনেকে হয়ত বলবেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার পরও অনেক সেনাসদস্য তাদের বীরত্বের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তো ছাত্রলীগেরও ব্যপক অবদান ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ভূমিকা অবদান ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তার মানে কি এই যে এখনও াত্রলীগের প্রয়োজন আছে ? একমাত্র ছাত্রলীগ কর্মী ছাড়া কোন পাগলেও স্বীকার করবে না যে বর্তমান বাংলদেশে ছাত্রলীগের কোন প্রয়োজন আছে। ছাত্রলীগের কুকীর্তির কথা আর বর্ণনা করলাম না। আপনিও জানেন, ছাত্রলীগ নিজেও জানে, সারা বাংলাদেশ জানে। তবু দশটা ছবি দিলাম যেন একথা বলতে না পারেন যে আমি ফাঁকা দাবী করছি।  ......ছবি...। বাংলাদেশ থেকে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সব উঠিয়ে দেন। ছাত্র রাজনীতির কোন অস্তিত্বই থাকার দরকার নাই।  

পক্ষে যুক্তিঃ মাথাব্যথা করলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না। ঠিক তেমনি সেনাবাহিনীর কিছু খারাপ কাজের জন্য সেনাবাহিনী উঠিয়ে দেয়া যায় না।
বিপক্ষে যুক্তিঃ সম্মত। তবে মাথার প্রয়োজন না থাকলে তো মাথা বাদ দেয়া যায়, নাকি ? আমি সেনাবাহিনীর অপরকর্মের জন্য বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী উঠিয়ে দিতে বলছি না। বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নাই বিধায় উঠিয়ে দিতে বলেছি।  আপনার হাতে একটা অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে যদি বলা হয় আপনার শত্রুকে খুন করতে। আপনি কি পারবেন ? পারবেন না। এই মানসিকতা এত সহজে তৈরি হয় না। অনেক প্রশিক্ষণ ও অমানুষিক পরিশ্রমের পর তৈরি হয়। নিশ্চিতরূপে হত্যা করতে পারাটা কোন সুস্থ মানসিকতার পরিচয় না। এত প্রশিক্ষণ ও অমানুষিক পরিশ্রম করে এরকম অসুস্থ মানসিকতা তৈরি করার দরকারটা কি ? হত্যা বা খুন করার মানসিকতা মন থেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলতে হবে।

আমাদের দেশের সেনাবাহিনী যতই শক্তিশালী হোক, ভারত যদি আক্রমণ করে তবে এক সপ্তাহর মধ্যে বাংলাদেশ দখল করে ফেলতে পারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামর্থ্য নেই এই আক্রমণ ঠেকানোর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু মায়ানমারের সাথেই টক্কর দিতে পারবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের উপর যেহেতু মায়ানমারের নজর আছে সেহেতু সেনাবাহিনী একেবারে উঠিয়ে দেয়ার বিকল্প হিসেবে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে বেশীরভাগ সেনা মায়ানমার সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হোক। আর বাকি সেনাদের বিডিআরদের মত সীমান্তে বসিয়ে দেয়া হোক। তাহলে বর্ডার পারাপার নিয়মমাফিক হল কিনা সেটা দেখা যাবে এবং চোরাচালানও বন্ধ করা যাবে।

পক্ষে যুক্তিঃ দেশের অভ্যন্তরীন অনেক ব্যাপারেও সেনাবাহিনীর প্রয়োজন আছে। আগুন লেগেছে ? বন্যা হয়েছে ? বিল্ডিং ভেঙেছে ? রাস্তা তৈরি করতে হবে ? লেক বানানো লাগবে ? ফ্লাইওভার বানানো লাগবে ? স্বচ্ছ ভোটার লিস্ট লাগবে ? এসব সেনাবাহিনী ছাড়া অসম্ভব।
বিপক্ষে যুক্তি:  কে বলেছে অসম্ভব ? অবশ্যই সম্ভব। পুলিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করলে পুলিশও স্বচ্ছ ভোটার লিস্ট বানাতে পারে। পুলিশদেরও আর্মিদের কাছাকাছি ট্রেনিং দিলে তারাও বন্যার্তদের সাহায্য করতে পারবে, ভাঙা বিল্ডিং এর ধ্বংসস্তুপ থেকে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করতে পারবে। আমি বলছি না যে সেনাবাহিনী দেশ ও জনতার সেবায় কাজে লাগে না। অবশ্যই লাগে কিন্তু যেসব কাজে লাগে ওসব কাজ পুলিশ দিয়েও করানো যায়।
পক্ষে যুক্তিঃ আফ্রিকার কিছু দেশে শান্তি মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসংশনীয়। এর ফলে আফ্রিকার দেশের মানুষ বাংলাদেশের সংস্কৃতি সমন্ধে জানতে পেরেছে, বাংলা ভাষা শিখছে, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শিখছে। আফ্রিকার একটা দেশ সিয়েরালিওনের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষাই হল বাংলা। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর শান্তিমিশনের জন্য। যাদের জন্য অন্য একটা দেশ তাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করেছে, তাদের দেশ থেকে উঠিয়ে দেয়া কি উচিত হবে ?

বিপক্ষে যুক্তিঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবদান রাখার পরেও যেখানে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী থাকা উচিত না, সেখানে আপনি আছেন অন্য দেশ নিয়ে। বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষা অন্য দেশে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার আরো ভালো উপায় আছে। ভাল মানের বাংলা ছবি বানিয়ে দুই তিনটা অস্কার যেতা। তবে বিদেশীরা বাংলা সিনেমা দেখতে আগ্রহী হবে এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রেমে পড়ে যাবে।

পক্ষে যুক্তিঃ সেনাবাহিনী না থাকলে আমাদের দেশে অশান্তি ও অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হবে। আমাদের জলসীমা আমেরিকা পাহারা দিবে। যুদ্ধ লাগলে ভারতের কাছে হাত পাততে হবে, ছোট হতে হবে। তাছাড়া রোগ হবার আগে তো ওষুধ খাবার দরকার না থাকলেও আমরা ঘরে জ্বরের ওষুধ, ডায়েরিয়ার ওষুধ রাখি। ঠিক সেরকমই যুদ্ধ না লাগলেও সেনাবাহিনীর দরকার আছে।
বিপক্ষে যুক্তিঃ সেনাবাহিনী না থাকলে আমাদের দেশে অশান্তি ও অস্থিতিশীল অবস্থা কেন তৈরি হবে ? কোন অশান্তি বা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হবে না। বাংলাদেশের জলসীমা বিডিআর পাহারা দিবে, আমেরিকা নয়। যুদ্ধ লাগলে এমনিতেও আমাদের ভারতের কাছে হাত পাততে হবে, সেনাবাহিনী থাকুক আর না থাকুক। বাংলাদেশের লক্কর ঝক্কর সেনাবাহিনী দিয়ে কোন যুদ্ধ লড়া সম্ভব নয়। এমনিতেও পৃথিবী থেকে যুদ্ধ জিনিসটা উঠে যেতে বসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অধিভূক্ত দেশগুলোকে দেখেন না ? তারা কি সুন্দর সমঝোতা ও চুক্তি বজায় রেখে চলে। আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধান করে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কেন ওদের মত হতে পারি না ? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ''আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" নিয়ে তো পড়াশুনা করি নাই। তাই এ ব্যাপারে আমার কোন জ্ঞান নাই। তবু চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি ? পাকিস্তানকে ১৯৭১ এর জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হোক। ক্ষমা চাইলে ওরা সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে থাকতে পারবে, নইলে বাদ। বাসায় আগে থেকে ওষুধ রাখবেন কেন ? ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ ক্রয় বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জানি, লেখাটা আপনার কাছে বুদ্ধি ও বিবেকবর্জিত মনে হচ্ছে, হয়ত হাসিও পাচ্ছে। নতুন আইডিয়ার কথা শুনে সাধারণত মানুষের হাসিই পায়। মানুষ নতুনকে সহজে গ্রহণ করতে পারে না। পঞ্চাশ বছর বা একশ বছর লেগে যায় নতুন আইডিয়ার মর্ম বুঝতে। আর্মি পুরোপুরি উঠিয়ে না দিলেও আর্মির ক্ষমতা পুলিশের চেয়েও কমিয়ে দেয়া হোক। অশিক্ষিত ও অল্প-শিক্ষিত লোকদের হাতে এত ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। আর্মিতে কারা যোগ দেয় ? যারা দেশের সেবায় নিজেদের জীবন নিয়োজিত করতে চায়, তারা ? জ্বী না। যারা লেখাপড়ার হাত থেকে বাঁচতে চায়, তারা আর্মিতে যোগ দেয়। যারা এইচএসসি পরীক্ষার পর ভাবে তাদের দিয়ে আর পড়াশুনা হবে না, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার মত মেধা নাই কিন্তু অমানুষিক শারিরীক পরিশ্রম করার মত শক্তি আছে তারাই আর্মিতে যোগ দেয়। দেশপ্রেম একটা অজুহাত মাত্র।
এখন হয়ত বলবেন, ''সেনাবাহিনীর লং কমিশন্ড অফিসারেরা সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি B.Sc পড়েন এবং ওসব অফিসারদের মধ্যে যারা বিভিন্ন টেকনিক্যাল কোরে ( ই.এম.ই ইঞ্জিনিারস, সিগন্যালস ) যান, তাদের পরবর্তীতে বুয়েট বা এমআইএসটি তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশুনা করতে হয়। তাহলে ? এখনও কি বলবেন আর্মিরা অশিক্ষিত ?"
এখন প্রশ্ন চলে আসে - যদি কিছু অফিসারের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ভীতি বা অনাগ্রহ নাই থাকে তবে আর্মিতে যোগ না দিয়ে সাধারণ লাইনে লেখাপড়া করতে সমস্যা কি ? আর্মিতে যোগ দেবার প্রয়োজন কি ? 
আর্মিতে এ ধরণের লোক দরকার।
তাতে তোমার কি ? তুমি কেন আর্মিতে এ ধরণের লোক যোগান দিবে ?
অথবা, দেশের তো আর্মির প্রয়োজন নাই।
 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাস কোর্স আর বিএসসি কোর্স কি সমমানের ? নিশ্চয়ই না। অবশ্যই পাস কোর্স নিম্নমানের। ঠিক সেরকম, সামরিক লাইনের শিক্ষাও নিম্নমানের। এমনকি সামরিক অফিসারদের মধ্যে যারা উচ্চশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার। তাদের সমস্ত শিক্ষা ম্লান হয়ে যায় একটা সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। সাধারণ ইঞ্জিনিয়ার তার জ্ঞান ও মেধা দিয়ে দেশের উপকারে আসে। ইঞ্জিনিয়ার আর্মির জ্ঞান ও মেধা শুধুমাত্র আর্মির নিজস্ব কাজ ছাড়া দেশের কোন উপকারে আসে না। আর বাংলাদশে আর্মির কোন প্রয়োজন নাই। তাই মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী উঠিয়ে দিন অথবা আর্মির ক্ষমতা পুলিশের চেয়ে কমিয়ে দিয়ে তাদের সীমান্তে পাঠিয়ে দিন এবং বিডিআর বানিয়ে দিন।
 














বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

বিজ্ঞানীদের জাতির জনকের সমান মর্যাদা দেয়া হোক

শিরোনাম শুনে আপনার মনে হতে পারে, ''মামাবাড়ির আবদান নাকি ? বিজ্ঞানীরা কিভাবে জাতির জনকের সমতুল্য হয় ? তারা তো মুক্তিযোদ্ধাদেরও সমতুল্য নয়।"
জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের চেয়ে রক্তের চেয়েও বেশী পবিত্র - এ কথাটা শুনেছেন। আশাকরি মানবেনও। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি তাদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি - বাঙালি বিজ্ঞানীদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমান মর্যাদা দেয়াই উচিত। সব বিজ্ঞানীকে নয়। যাদের আবিস্কার বিজ্ঞান জগৎকে আলোড়িত করেছে শুধুমাত্র তাদেরকেই জাতির পিতার সমান মর্যাদা দিন। 
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কাছ থেকে জেনে নিন - কারা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ? 

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোস, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, জ্যোতির্বিজ্ঞানী রাধাগোবিন্দ চন্দ্র, পরীক্ষণনির্ভর পদার্থবিজ্ঞানী জাহিদ হাসান, আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু, পদার্থবিজ্ঞানী বিভা চৌধুরী ইত্যাদি। এনারাই হলেন বাঙালি জাতির সত্যিকার গর্ব। এদের ছবিও বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি বাংলাদেশের নোটে স্থান পাক। 

বঙ্গবন্ধু শুধুই বাংলাদেশের জাতির পিতা, মহাত্মা গান্ধী শুধুই ভারতের জাতির পিতা। জাতির জনকরা শুধুই একটা জাতির হিরো। বঙ্গবন্ধু শুধুই বাংলাদেশীদের হিরো, তিনি কখনোই নেদারল্যান্ডবাসীর হিরো হবেন না। মহাত্মা গান্ধী শুধুই ভারতীয়দের হিরো, তিনি কখনোই অস্ট্রেলিয়ানদের হিরো হবেন না। কিন্তু একজন বিজ্ঞানীর আবিস্কার সকল দেশের পাঠ্যবইয়ে থাকে। কাজেই বিজ্ঞানীরা সকল দেশের, সসকল মানুষের হিরো। এখন বুঝলেন তো বিজ্ঞানীদের মর্যাদা কোন লেভেলের ? অনুগ্রহপূর্বক বাঙালি বিজ্ঞানীদের ছবি নোটে স্থান দিন। তাঁদের জন্মদিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উনাদের জীবন, কর্ম নিয়ে আলোচনাসভা করার নির্দেশ দিন। 

স্যাটেলাইট, বিমান বন্দর, নভোথিয়েটার সবকিছুর নামে ''বঙ্গবন্ধু'' শব্দটা না লাগিয়ে কিছু কিছু স্থাপনার নাম বাঙালি বিজ্ঞানীদের নামেও করুন। 

পুলিশের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া হোক

একবার গ্রেফতার হলে একজন মানুষের মান-সম্মান, সামাজিক মর্যাদা সব শেষ হয়ে যায়। তাই সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। হয়ত খুন হওয়া ব্যক্তির রুমে আরেকজন জীবন্ত ব্যক্তিকে পাওয়া গেল, তবু তাকে এরেস্ট করা যাবে না। সন্দেহের ভিত্তিতে এরেস্ট করার আইন বাতিল করুন, মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী।
কারোর বিরুদ্ধে খুন বা ধর্ষণ বা জালিয়াতির মামলা করা হলেও তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। এরকম অসংখ্য কেস আছে যেখানে আসামী 3 বছর, 5 বছর এমনকি 10 বছর জেল খাটার পর প্রমাণিত হয় যে সে নির্দোষ ছিল। তার জীবনের অতগুলো বছর তো আপনি ফিরিয়ে দিতে পারবে না। পারবেন কি ?
একমাত্র আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তখনই শুধুমাত্র গ্রেফতার করা যাবে। অপরাধ প্রমাণ হবার আগ পর্যন্ত বারবার আদালতে এসে হাজিরা দিয়ে গেলেই হল। আসামী যেন পালিয়ে না যায় সেজন্য তার হাতে বা পায়ে ট্র্যাকার ফিট করা হবে। ফলে তাকে সবসময় ট্র্যাক করা যাবে। আদালতে নির্দোষ প্রমানিত হলে ট্র্যাকার খুলে নেয়া হবে। কেউ ট্র্যাকার খোলার চেষ্টা করার সাথে সাথে পুলিশ এসে আসামীর আশেপাশের সব এলাকা, রাস্তা ঘিরে ফেলবে যাতে পালানোর কোন উপায় না থাকে।
ব্যাস, ঝামেলা শেষ।

আর রিমান্ড জিনিসটা বাংলাদেশ থেকে উঠিয়ে দিন। রিমান্ডে নিলে নিরপরাধ মানুষের উপরও জঘণ্য অত্যাচার হয়। কারোর স্বীকারোক্তি আদায় করতে হলে তাকে Lie Detector Test নেয়া হোক। এক ধরণের যন্ত্র Lie Detector. এ যন্ত্রে হাত রেখে মিথ্যা কথা বললে যন্ত্র ধরে ফেলে। মিথ্যা বলার সময় মানুষের শ্বাস প্রশ্বাস ঘন ঘন হয়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। শরীরের এই সূক্ষ পরিবর্তন এ যন্ত্র ধরতে পারে। খুবই চালাক মানুষ হয়ত স্বাভাবিকভাবে সত্যের মত মিথ্যা বলে যেতে পারে এবং যন্ত্রকে ফাঁকি দিতে পারে। সেটা খুবই rare case. এখন Lie Detector আরো উন্নত ও sensitive হয়ে উঠছে। প্রত্যেক থানায় এক ডজন Lie Detector পাঠিয়ে দিন। তবে আসামী সত্য বলছে নাকি মিথ্যা বলছে সেটা খুব সহজেই ধরা যাবে। অনেক সময় আসামী সত্য বললেও পুলিশ বিশ্বাস না করে রামধোলাই দেয়। এ জিনিসটা বন্ধ করা যাবে, রিমান্ডের প্রয়োজনই হবে না। 

সরকারী চাকুরীজিবীরা 2য় শ্রেণীর নাগরিক হোক

মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী, আপনি সরকারী চাকুরীজিবীদের কেন প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা দিলেন ? এদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিন। প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হবে যত সৃষ্টিশীল মানুষ আছে যেমন - বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক, আর্টিস্ট এনারা। আমাদের মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, নির্মলেন্দু গুণ, মোস্তফা মনোয়ার ইত্যাদি। এনারা হবেন প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হবার প্রথম শর্ত বিনা পারিশ্রমিকে যারা সৃষ্টিশীল কাজ করেন তারা। অর্থাৎ অভিনয় এবং নাটক সিনেমার পরিচালনা যদিও সৃষ্টিশীল কাজ তবু তারা পারিশ্রমিক নেন বিধায় তারা ১ম শ্রেণীর নাগরিক হতে পারবেন না। 
এবার আসি সরকারী কর্মকর্তারা কেন ১ম শ্রেণীর নাগরিক হবার যোগ্য নন, সেই প্রসঙ্গে। বিসিএস পরীক্ষার্থীরা কি করে ? কোন সাহিত্যিক কোন গল্প উপন্যাস লিখছে সেগুলো মুখস্ত করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও একবারও চিন্তা করে দেখে না নিজে কোন উপন্যাস লিখতে পারত কিনা, কোন বিজ্ঞানী কি আবিস্কার করছে তা মনে রাখতে গিয়ে মাথার তার ছিড়ে ফেললেও একবারও চিন্তা করে দেখে না নিজে কি আবিস্কার করতে পারত। অর্থাৎ সৃষ্টিশীল হওয়া তো দূরের কথা যারা সামান্য মাথা খাটাতে পারে না, গরুর মত মুখস্ত করতে পারে তারাই বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং টিকেও যায়। বিসিএস পরীক্ষায় যে যত ভাল করবে, তার মুখস্তবিদ্যা তত বেশী, সে তত বড় গাধা। এই গাধারাই সরকারী চাকরী করে। সাহিত্যিকম বিজ্ঞানী, আর্টিস্ট এসব মাথা খাটানো লোকদের চেয়ে ঐসব মুখস্তবিদ্যাধারী গবেট ক্যাডার গুলোর মর্যাদা বেশী হওয়াটা কি উচিত ? আপনিই বলুন প্রধাণমন্ত্রী। 
তাছাড়া সরকারী কর্মকর্তাদের ২য় শ্রেণীর নাগরিক বানালে মানুষ বিসিএসের প্রতি অত আকৃষ্ট হবে না ফলে প্রতিযোগীতা কম হবে। এটাই তো ভাল। ১ম শ্রেণীর নাগরিক হবার জন্য সবাই মুখস্তবিদ্যা বাদ দিয়ে মাথা খাটানো শুরু করবে। ফলে সাহিত্যে ও বিজ্ঞানে বাংলাদেশ নোবেল পুরস্কার হাসিল করবে। এটা ভাল না ? 

মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০

ধর্ম সমালোচনার অধিকার চাই, দোজখে যাবার অধিকার চাই

মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী, আপনার কেন মনে হয় যে সবকিছুর একজন স্রষ্টা আছে ? স্রষ্টা নাও তো থাকতে পারে। হতেও তো পারে পৃথিবীর সব ধর্ম মিথ্যা এবং সব ধর্মপ্রচারক মিথ্যাবাদী ও জোচ্চর। ওসব মিথ্যুক ধর্মপ্রচারকদের বলা মিথ্যা আমরা হাজার হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় মেনে চলেছি। ছোটবেলায় বাবা মা প্রথম ধর্ম সমন্ধে জ্ঞান দেয়, আর বাবা মাকে আমরা ভালবাসি বিধায় তাদের শেখানো ফেলতে কষ্ট হয়। এই আর কি। আহামরি ব্যাপার নয়। চেষ্টা করলে অবশ্যই সম্ভব ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসা। ধর্মের প্রতি মনে সন্দেহ আনুন, বিশ্বাসে ফাটল ধরান। 
তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে, আপনার ধর্মটা সঠিক। তবু প্রশ্ন চলে আসে - স্রষ্টা প্রণীত ধর্মটা সমালোচনা করার জন্য শাস্তি প্রদানের অধিকার রাষ্ট্রকে তথা মানুষকে কে দিয়েছে ? ধর্ম সমালোচনার জন্য যদি কেউ শাস্তি দিতে পারে, তবে সেটা কেবলমাত্র স্রষ্টা। রাষ্ট্র নয়। স্রষ্টার সম্মান ও স্রষ্টা প্রণীত ধর্ম, কিতাব, পয়গম্বরের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিজের হাতে তুলে নেয়ায় প্রমাণ হচ্ছে - 
স্রষ্টা নিজের সম্মান, নিজের প্রেরিত ধর্ম, কিতাব, দূতের সম্মান রক্ষা করতে পারে না। আপনারা ধর্মানুভূতি রক্ষার্থে আইন বানিয়ে স্রষ্টাকে ছোট করছেন, অসম্মান করছেন। স্রষ্টা নিজের সম্মান, নিজের প্রেরিত ধর্ম, কিতাব, দূতের সম্মান নিজেই রক্ষা করতে পারে। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে না। ধর্মের সমালোচনা করার আইনত অধিকার প্রদান করুন। নাহয় স্রষ্টা আমাদের দোজখেই পাঠাল। ওটা নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না। আপনারা দোজখে যাবেন না। ধর্ম সমালোচনার অধিকার চাই, দোজখে যাবার অধিকার চাই। 
মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মূল্য আছে কিন্তু ধর্মানুভূতিসহ যেকোন সমষ্টিগত অনুভূতির মূল্য কম। কেন কম ? কারণ, অনুভূতি মাপার কোন যন্ত্র না থাকলেও সামান্য common sense থাকলেই এটা বুঝা যায় যে সবাই একসাথে মনে কষ্ট পেলে, সেই কষ্ট সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তখন প্রতিটা মানুষ আলাদাভাবে তেমন কষ্ট পায় না। ধর্মীয় অনুভৃতিতে আঘাত করতে দিন, প্লিজ। 
একজন হিন্দু যদি ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে বা একজন মুসলিম যদি হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করে তবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধার সম্ভাবনা আছে। হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় হয়ত দাঙ্গায় জড়াবে না, কিন্তু মুসলিমরা চাইলে ঠিকই হিন্দুদের উপর চড়াও হয়ে যেতে পারে। এক ধর্মের মানুষ যদি আরেক ধর্মের সমালোচনা করে তবে দাঙ্গা না বাধলেও ক্ষোভ অসন্তোষ জন্ম নেয়াটাই স্বাভাবিক এবং সেই ক্ষোভ অসন্তোষ আকমণে রূপ নিতে কতক্ষণ ? কাজেই, ধর্ম সমালোচনার আইনত অধিকার ধার্মিকদের না দিয়ে শুধু ধর্মহীনদের ( নাস্তিক ও সংশয়বাদী ) দেয়া হোক। হ্যা, নাস্তিকরা ধর্ম সমালোচনা করলেও ক্ষোভ অসন্তোষ জন্ম নিবে ঠিকই কিন্তু সেই ক্ষোভ, অসন্তোষ শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রত্যেক ধর্ম সমালোচনাকারী নাস্তিক ব্লগারকে পুলিশী সুরক্ষা প্রদান করা হোক। ব্যাস, ঝামেলা শেষ। এখন হয়ত ভাবছেন - "ধর্মহীনদের ধর্ম সমালোচনার অধিকার দেয়া হবে কিন্তু ধার্মিকদের দেয়া হবে না - এটা কেমন কথা ? আইন তো সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।" ...... সেক্ষেত্রে আমি বলব, ''এসব ব্যাকডেটেড দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিন। আইন সবার জন্য সমান হবার দরকার নাই। Change your point of view.'' 


২১, ২৫, ২৮ ধারা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকার তাৎপর্য, গুরুত্ব একেকজন মানুষের কাছে একেকরকম। আপনার কাছে মুক্তিযুদ্ধকে মহান মনে হলেই আরেকজন মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে কেন মহান মনে হতে হবে ? আপনার কাছে জাতির জনক, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকার যেরকম গুরুত্ব সেরকম গুরুত্ব আরেকজন বাংলাদেশীর কাছে না থাকলে আপনি আইনের ভয় দেখিয়ে জোর করে গুরুত্ব তৈরি করবেন নাকি ? কোন ব্যক্তিই বা কোন কিছুই সমালোচনার উর্ধ্বে থাকা উচিত নয়। তা সেটা বঙ্গবন্ধুই হোক, জাতীয় সঙ্গীতই হোক, জাতীয় পতাকাই হোক আর মুক্তিযুদ্ধই হোক। কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করে তাকে শাস্তি না দিয়ে, কারাদন্ড না দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হোক - কেন তার কাছে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকাকে অপমানের যোগ্য মনে হল ? Why ? 
তাকে কারণ জিজ্ঞেস করা হবে। যদি তার কারণ যৌক্তিক হয় তবে ছেড়ে দেয়া হবে আর যদি অযৌক্তিক হয় তবে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বুঝাতে হবে। তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে হবে। সেটা না করে শাস্তির বিধান কেন ? শাস্তির ভয় দেখিয়ে অনলাইনে প্রগাপান্ডা বা প্রচার চালানো হয়ত বন্ধ করা যাবে কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি তো আর পাল্টাতে পারবেন না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোই তো আসল। আপনি নিশ্চয়ই চান না যে জাতির জনকের প্রতি কারোর মনে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকুক। তাই না ? 
মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকাকে ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে, টুইটারে যত অপমানই করা হোক; যতই গালিগালাজ করা হোক শুধুমাত্র ভার্চুয়াল জগতের লেখার জন্য কাউকে দশ বছর কারাদন্ড দেয়া যায় না, কারোর জীবন থেকে 10 বছর কেড়ে নেয়া যায় না। এটা পাগলামি। দশটা বছর মানে বুঝেন ? দশ বছর জেলে থেকে আসার পর একজনের পুরো জগৎটাই চেঞ্জ হয়ে যাবে, জেলের বাইরে এসে সে পরিচিত কোনকিছুই খুঁজে পাবে না। তার পরিচিত দোকান থাকবে না, তার পরিচিত মডেলের মোবাইল ফোন আর পাওয়া যাবে, তার পরিচিত খেলার মাঠে বিল্ডিং গড়ে উঠবে, তার দাদু দিদা অপেক্ষা করতে করতে মরে যাবে, তার পরিচিত অবিবাহিত বন্ধুবান্ধবদের বাচ্চাকাচ্চা পর্যন্ত বড় হয়ে যাবে। এত পরিবর্তন ঘটবে, কিন্তু সে কিছুই জানবে না। এটা যে কত কষ্ট তা শুধু প্রচন্ড কল্পনাশক্তি আছে এমন মানুষই ( যেমন আমি ) বুঝবে। এত বড় শাস্তি কেন ? মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকাকে অপমান করার জন্য, তাও আবার ভার্চুয়াল জগতে ( Fake world এ )। যে কাজের জন্য কোন শাস্তিই হওয়া উচিত না, সেই কাজের জন্য মৃত্যুদন্ডতুল্য শাস্তি !!! 

বঙ্গবন্ধুকে বা অন্য কোন সাধারণ ব্যক্তিকে, যাকেই অপমান করা হোক। অপমানকারীকে কিছুতেই ২ সপ্তাহর বেশী জেল দেয়া যায় না। পৃথিবীতে কারোর সম্মান এত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না যে তার সম্মানে মৌখিকভাবে আঘাত করার জন্য ২ সপ্তাহর বেশী জেল দেয়া যায়। বইয়ে লিখে অপমান করলে হয়ত একমাস এবং বই থেকে অপমানজনক কথা মুছে ফেলার আইনী নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। আর সোশাল মিডিয়ায় ফটোশপ করে অপমান করলে ১ মাস কারাদন্ড এবং ঐ ছবি সোশাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করার আইনী নির্দেশ দেয়া যায়। আর সোশাল মিডিয়ায় শুধু পোস্ট লিখে অপমান করলে একদিনও শাস্তি দেয়া উচিত হবে না। কারণ, ভার্চুয়াল জগতের লেখার এক পয়সাও দাম নাই। সামনাসামনি অপমান করলে সেটাকে বড় করে দেখা উচিত। সোশাল মিডিয়ায় লিখিত অপমান দেখাই উচিত না। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ব্লগ এসব সোশাল মিডিয়ায় শুধু লিখিত অপমানের জন্য তর্ক করে বুঝানো বাদে অন্য কোন পদক্ষেপ নেয়াটাই বাড়াবাড়ি। সর্বোচ্চ অপমানকারী ব্যক্তিকে অপমানিত ব্যক্তির সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হবার আইনী নির্দেশ দেয়া যায়। যদি অপমানকারী তর্কে হেরে যায় তবে তাকে শুধু ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যাস আর কিছু না। 
























বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০

মানুষের মাথা ঠান্ডা করুন

বাংলাদেশের মানুষের মাথা এত গরম কেন ? আমি বুঝিনা। একটু থেকে একটুতেই ফাঁসী চেয়ে বসে থাকে। ২০১৮ সালে এক কাঠমিস্ত্রী ফেসবুকে প্রধাণমন্ত্রী, জাতির জনক, জিয়াউর রহমান এবং কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অপমান করেছিল। যাদের অপমান করছে তারা মানহানির কেস করলে নাহয় কাঠমিস্ত্রীকে গ্রেফতার করা মানাইত, কিন্তু যাদের অপমান করছে তাদের খবর নাই। পুলিশের এত লাগল কেন ? রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কি পুলিশের আত্মীয় নাকি ? তানাহলে পুলিশের এত জ্বলবে কেন ? পুলিশ তাকে কেন গ্রেফতার করল ? একজনের সম্মানহানি হলে আরেকজন তার হয়ে কেস করতে পারবে কেন ? এই অন্যায় আইন পরিবর্তন করুন। যার মানহানি হয়েছে, শুধু সেই কেস করবে। তো যখন ঐ মিস্ত্রী ও পুলিশের স্বাক্ষাৎকার you tube এ release হয়েছে। তখন সেই ভিডিওগুলোর নিচে মানুষ কমেন্ট করে ফাঁসীর দাবীর জানাচ্ছে। কাউকে অপমাান করার জন্য মৃত্যুদন্ড বা ফাঁসী চাওয়া প্রমাণ করে দেয় বাংলাদেশের মানুষ কি পরিমাণ উগ্র। তারপর ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এক ছাত্রীকে নকলের অভিযোগে টিসি দিতে চাওয়ায় সেই ছাত্রী আত্মহত্যা করছে। সাথে সাথে রামছাগলের দল you tube video এর কমেন্টে সেই অধ্যক্ষের ফাঁসী চাওয়া শুরু করছে। মাথা খারাপ নাকি পেট খারাপ ? কিছু হলেই ফাঁসী, কিছু হলেই ফাঁসী। কিছুদিন পর দেখা যাবে আম চুরি করলেও ফাঁসীর দাবি জানানো হচ্ছে। যত্তোসব। ঐ ছাত্রীর নামে একটা স্মারক তৈরি করে তার প্রতি যথার্থ সম্মান দেখানো যেত। যদ্দিন ভিকারুন্নেসা স্কুল থাকবে ( একশ বছর বা দুইশ বছর ) তদ্দিন সেই মেয়েকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে। এভাবে তাকে মৃত্যুর পর অমর করে রাখা যেত না ?
বাংলাদেশের মানুষ মাত্রাতিরিক্ত আবেগী। বৃদ্ধ থেকে শিশু সবাই আবেগের চোটে বিবেক হারিয়ে উল্টোপাল্টা সব দাবী জানিয়ে বসে। লঘু পাপে গুরুদন্ড চেয়ে বসে। যেখানে গুরুপাপে লঘুদন্ড দেয়া উচিত।
আইনকে কঠোর করা যাবে না। মৃত্যুদন্ড তুলে দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা থেকে মৃত্যুদন্ড তুলে দেবার জন্য আজ অব্দি কোন দাবী জানানো হয়নি। কারণ, এই বিধানের প্রতি দেশের জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ জনমত আছে। যে দেশে ছোটখাট অপরাধ, এমনকি অপরাধ না হলেঐ স্রেফ অনুভূথতিতে আঘাত লাগার জন্য সাধারণ মানুষ মৃত্যুদন্ডের দাবী জানায় সেই দেশে মৃত্যুদন্ডের আইন তুলে দেয়া অনেক কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। ধর্ম অবমাননার জন্য দন্ডের বিধান তুলে দেয়াটাও অসম্ভব নয়।
সরকারের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। জনগণের মন রক্ষা করা নয়। মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী এটা আপনি বেশ ভাল করেই বুঝেন। তানাহলে সকল পরিবেশবাদী ও সাধারণ মানুষের দাবী উপেক্ষা করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাবার সিদ্ধান্ত নিতেন না। খোদ জাতিসংঘ যেখানে বলেছে - রামপালে বিদুৎকেন্দ্র বানালে পরিবেশে চরম ক্ষতি হবে। অথচ আপনি কারোর কথায় কর্ণপাত না করে ঠিকই আপনার সিদ্ধান্তে অটল আছেন। আপনি মনে করেন, ''বাংলাদেশের মানুষ  নিজেদের ভাল বুঝে না। তাই দেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের ভাল করতে হবে।"
আমি অন্তর থেকে আপনার এই চিন্তা সমর্থন করি। আপনার চিন্তা সঠিক। আসলেই দেশের মানুষ নিজেদের ভাল বুঝে না। তাই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের উপকার করতে হবে। কিন্তু আপনার সঠিক চিন্তাটি আপনি ভুল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন। সঠিক চিন্তা সঠিক ক্ষেত্রে ( ধর্ম অবমাননা ও কঠোর আইন দূরীকরণ ) প্রয়োগ করুন, ভুল ক্ষেত্রে ( বিদ্যুৎকেন্দ্র ) প্রয়োগ কইরেন না।
তথাকথিত ধর্মানুভূতিতে আঘাতের আইনত অধিকার দিলে এবং মৃত্যুদন্ডের মত কঠোর আইনগুলো বাতিল করলে বাংলাদেশের জনগণ হয়ত মনে কষ্ট পাবে কিন্তু এতে তো তাদের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। তাই না ? কিন্তু রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানালে পরিবেশের ক্ষতি হবেই। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে ultimately মানুষেরই ক্ষতি হবে। মানুষ পরিবেশের চেয়ে বড় নয়। পরিবেশ মানুষের চেয়ে বড়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাল না বুঝলেও এই একটা ক্ষেত্রে ঠিকই বুঝে।
আর বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি কেয়ার করার দরকার নাই। মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মূল্য আছে কিন্তু সমষ্টিগত অনুভূতির মূল্য অনেক কম। কিসের ভিত্তিতে এটা বললুম ? অনুভূতি মাপার কোন যন্ত্র না থাকলেও এটা common sense যে, সবাই একসাথে মনে কষ্ট পেলে সেই কষ্ট সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ফলে প্রত্যেকে আলাদাভাবে তেমন কষ্ট পায় না।  ...  Am I right ? Or, am I right ? 



যেমন কয়েক বছর আগে BCS পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া সুশান্ত পালের ফেসবুক status এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান হয়েছে মনে করে কিছু বলদ সুশান্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবীতে আন্দোলন করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এককালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত। আপনি ঈংল্যান্ডে গিয়ে আসল অক্সফোর্ডকে গালি দিলেও সেখানকার কোন শিক্ষার্থী আন্দোলন করবে না। বাংলাদেশের মানুষ হল হুজুগে। বেশীরভাগ মানুষের মতের সাথে মেলে না, এমন কিছু মুখ থেকে বের করলেই হল। পাগল জনতা ''ক্ষমা চাও'', ''ক্ষমা চাও'' বলে আকাশ ফাটিয়ে ফেলবে। বাংলা সিনেমার নায়ক ওমর সানি ঈদে কোরবানীর পিছনে টাকা খরচ না করে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে অর্থ বিতরন করতে বলেছিলেন। সাথে সাথে পাগল জনতা ক্ষমা চাওয়ার দাবীতে আওয়াজ তুলছে। টিভি অভিনেতা মোশারফ করিম এক অনুষ্ঠানে বলেছিল, ''মেয়েরা যেমন খুশি ড্রেস পড়বে। তাদের ড্রেস তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। অন্য কারোর এক্ষেত্রে কিছু করার নাই।"  সাথে সাথে পাগল জনতা তাদের প্রিয় অভিনেতাকে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবীতে চিল্লাপাল্লা শুরু করছে। বাংলাদেশের মানুষ পাগলামী করবেই। আপনি এত বুদ্ধিমান হয়ে যদি বাংলাদেশের মানুষের পাগলামীকে প্রশ্রয় দেন।  তাহলে হবে ?

কোন ব্যক্তি ( সুশান্ত পাল বা ওমর সানি বা মোশারফ করিম ) যদি কোন সম্প্রদায়, কোন প্রতিষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ধর্ম বা আপনার বাবা মায়ের অবমাননা করে তবে উক্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে না বলে আগে কারণ জানতে চাইতে হবে যে কেন তার কাছে অমুক সম্প্রদায়কে বা প্রতিষ্ঠানকে বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে বা ধর্মকে বা আপনার বাবা মাকে অবমাননার যোগ্য মনে হল ?
কিন্তু আফসোস যে কেউ কারণ জানতে চায় না।

মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী, আপনার দায়িত্ব শুধু মানুষের সেবা করা, মানুষের মন রক্ষা করা নয়। আর সেবা করা বলতে শুধু জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই বুঝায় না। সেবাা বলতে মানুষের মন মানসিকতা উন্নত করাও বুঝায়। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কারণ জানতে চাওয়ার প্রবনতা গড়ে তুলতে হবে। তাদের অন্ধ আবেগের প্রভাব থেকে মুক্ত করে যুক্তিবাদী হওয়া শেখাতে হবে।

 ভোট হারানোর ভয় পাইয়েন না। নাহয় কয়েক লক্ষ মানুষ আপনাকে ভোট না দিল, ক্ষতি কি ? তবু আপনি পরবর্তী নির্বাচনে জিতবেন। নির্বাচনে আপনার পরাজয় অনেকটা সূর্য পশ্চিম দিকে উঠার মত। কিন্তু কয়েকশ বছর পর যখন বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাভাবনা আধুনিক হবে, তখন তারা বাংলাদেশের অতীত প্রধাণমন্ত্রীর ( আপনার ) এই সময়ের চেয়ে advanced পদক্ষেপ নেয়ার কথা স্মরণ করে আপনাকে রীতিমত পূজা করবে। বর্তমান মানুষের কাছে হিরো হবার চেয়ে ভবিষ্যতেরর মানুষের কাছে হিরো হওয়াটা বেশী কার্যকর। এখন যদি আপনি বর্তমানকালের ব্যাকডেটেড মানুষদের সাথে তাল মিলিয়ে চলেন তবে ভবিষ্যতের মানুষের কাছে আপনি খারাপ শাসক এবং সর্বোপরি খারাপ মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। বুঝাতে পেরেছি ?























শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২০

রাষ্ট্রদ্রোহিতা কোন যুক্তিতে অপরাধ হয় ?

একজন নাগরিক দেশকে কি দিয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশ তার নাগরিককে কি দিয়েছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান বাবা-মাকে কি দিয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, বাবা-মা সন্তানকে কি দিয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বাবা মা অর্থের অভাবে সন্তানকে অনেক কিছু দিতে পারে না। দেশ গরীব হলে দেশও তার নাগরিককে অনেক সুযোগ সুবিধা দিতে পারে না; অনার্সের বিষয়ভিত্তিক চাকরী দিতে পারে না, গবেষণার সুবিধা দিতে পারে না, ভাল মানের Education provide করতে পারে না। ...... এতে আমার কোন আপত্তি নাই। আপত্তি তখন যখন বাবা মা ( দেশ ) তার সন্তানের ( নাগরিকদের ) স্বাভাবিক বিকাশ ও উন্নতিকে বাধাগ্রস্থ করে উল্টোপাল্টা আইন বানিয়ে এবং মাঝেমধ্যে সন্তানের সামান্য ভালর জন্য বিশাল ক্ষতি করে ফেলে ( তুচ্ছ বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য সুন্দরবন ধ্বংস করে ফেলা )।

দেশ কি দিয়েছে সেটাই যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু বাংলাদেশকে ভালবাসার কোন কারণই নাই। কেননা বাংলাদেশ আমাদের কিছুই দেয়নি। একটা অসভ্য জাতি উপহার দিছে। দুঃখ পেলে বা রাগ উঠলে সরি। কিন্তু যে জাতি লিঙ্গসমতায় বিশ্বাস করে না ( পুরুষদের চেয়ে নারীদের বেশী সুযোগ, সুবিধা, সম্মান দেয়া ), যে জাতি ধর্মানুভূতিকে গুরুত্ব দেয়, যে জাতি বিজ্ঞানীদের জাতির জনকের সমান মর্যাদা দেয় না, যে জাতি গুণী ব্যক্তির গুণের কদর করতে জানে না, যে জাতির ছাত্ররা ( ছাত্রলীগ ) শিক্ষাঙ্গনে মারামারি করে এবং শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে, যে জাতি রাস্তায় লুঙ্গি তুলে প্রাকৃতিক কাজ সারতে বসে পড়ে, যে জাতির মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেধার চর্চা ছেড়ে মুখস্তবিদ্যার (BCS) পথ ধরে, যে জাতি বিজ্ঞান শিক্ষক হবার জন্য বাংলা ব্যকরণ জানা মাথা পেতে মেনে নেয়, যে জাতি মৃত্যুদন্ডের মত অমানবিক আইন সাপোর্ট করে, যে জাতি অপ্রিয় সত্যি কথা সহ্য করতে না পেরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অযৌক্তিক আইন বানিয়ে রাখছে সেই জাতি কিভাবে সভ্য হয় - আমাকে ব্যাখ্যা করে বুঝান। 
Explain, Explain. 

একটা কারণ দেখান বাংলাদেশকে ভালবাসার জন্য। বাংলাদেশ আমার খাওয়া পড়ার খরচ দিচ্ছে না। আমি নিজের যোগ্যতায় ফ্রীল্যান্সিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করি। যখন বাবা মায়ের পয়সায় চলতাম, তখনও দেশ বা রাষ্ট্র ফ্রী ফ্রী আমার বাবা মাকে বেতন দিত না। কাজ করেই রাষ্ট্র থেকে বেতন আদায় করে নিত। সব রাষ্ট্রেই একই সিস্টেম। এইজন্যই তো প্রশ্ন আছে - যেকোন রাষ্ট্র তার নাগরিকের জীবনে কোন উপকারটা করছে যে রাষ্ট্রকে ভালবাসতে হবে ? এই প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 

আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি তা হল - রাষ্ট্রদোহিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবেন না। পৃথিবীর সব দেশেই এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আমরা অন্য দেশের ভাল রীতি, ভাল আইন গ্রহণ করব। বাজে আইন গ্রহণ করব না। একটা মানুষ চাইলে তার রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে যেতেই পারে। এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। 

পৃথিবীতে কোন রাষ্ট্র থাকাই উচিত নয়। সব দেশ মিলে একটা বিশ্বরাষ্ট্র গঠন করা উচিত। কোন মানুষ কেন নিজের দেশকে জন্মভূমি ভাববে ? পুরো পৃথিবীকে জন্মভূমি ভাবলে সমস্যা কি ? জানি দুনিয়া এভাবে চলে না কিন্তু দুনিয়া ভবিষ্যতে এভাবেই চলবে। দেখেন না ? ইউরোপিয় ইউনিয়ন অধিভূক্ত দেশগুলোয় মধ্যে যাতায়তে পাসপোর্ট লাগে না। সার্কভূক্ত দেশগুলোয় পাসপোর্ট কেন লাগে ? পৃথিবী এখন Globalization এর পথে হাটছে। এখন এসব ফালতু সার্বভৌমত্ব নিয়ে পড়ে থাকলে হবে ? জাতিসংঘে বিশ্বরাষ্ট্র গঠন করার জন্য প্রস্তাব রাখুন। পঞ্চাশ বছর লাগুক আর একশ বছর লাগুক। বিশ্বরাষ্ট্র তো হবেই। আপনি যদি প্রথম প্রস্তাব রাখেন, তবে বাংলাদেশেরই সুনাম বাড়বে।      

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

মৃত্যুদন্ড বাতিল করুন

ভয় দেখিয়ে কাউকে কোন কিছু করা থেকে বিরত রাখা যায় না। এই কথাটা মাথায় গেথে নিয়ে লেখাটি পড়া শুরু করুন। 
ইতিহাস - প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীতে অপরাধের শাস্তি হিসেবে বিশেষত হত্যার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান আছে। 1800 সালের মধ্যে ব্রিটেনে 200 টা অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান ছিল। ইসলামিক শরিয়া আইন অনুযায়ী মৃত্যুদন্ড একটি প্রচলিত শাস্তি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিভিন্ন মানবতাবাদী লেখক, দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারকগণ মৃত্যুদন্ডের বিরোধীতা করতে শুরু করেন। এটা মানবতাবিরোধী, অমানবিক ও অধঃপতিত একটা শাস্তি। 1948 সালে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনাপত্র জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হবার পর 8 টা দেশ অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের আইন বাতিল করে। 1977 সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় 16 তে। 2015 সাল পর্যন্ত পৃথিবীর 140 টা দেশ মৃত্যুদন্ডের আইন বাতিল করে। 
মৃত্যুদন্ডের শাস্তি মানেই রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার হরন করা। এ দন্ড সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনাপত্রের দু'টি বিধানকে লঙ্ঘন করে। প্রথমটা হল - জীবন ধারনের অধিকার। দ্বিতীয়টা হল - অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। 1973 সালে যুক্তরাষ্ট্রে 150 জন বন্দীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় যারা পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। অনেক মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রধান ভূমিকা পালন করে যা অত্যাচার করার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। সমাজের দরিদ্র শ্রেণী, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বেশী মৃত্যুদন্ডের শিকার হয় বিচার নিরপেক্ষতার অভাবে। দেশে মৃত্যুদন্ডের আইন রাখা মানবিক আদর্শের পরিপন্থী।  
 
মৃত্যুদন্ডের পক্ষে যুক্তি: প্রত্যেক মানুষের বাঁচার অধিকার আছে। যারা সজ্ঞানে একজন মানুষের বাঁচার অধিকার হরণ করে তারা নিজেদের বেঁচে থাকার অধিকারও হারায়। মৃত্যুই তার যথার্থ প্রাপ্য।
মৃত্যুদন্ডের বিপক্ষে যুক্তি: অবশ্যই প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আছে এবং কারোর বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করাটা দন্ডনীয় অপরাধ। এতে কোন সন্দেহ নেই। দন্ড হিসেবে আপনি 30 বছর জেল দিতে পারেন। 30 বছর বন্দী থাকা মৃত্যুর চেয়ে বেশী ভয়ানক। এক বছর বন্দী থাকলেই মানুষ পাগল হয়ে যায়। কেউ বন্দী জীবন চায় না, খাচায় বন্দী পাখির জীবন কারোর কাম্য নয়। সবাই আকাশে উড়া পাখির মত মুক্তভাবে সমাজে চলে ফিরে বেড়াতে যায়। বন্দীত্ব কি আপনার কাছে কম শাস্তি মনে হয় নাকি ? এটা বিশাল ব্যাপার। ঠান্ডা মাথায় খুনীদের 30 বছর ও রাগের মাথায় যারা খুন করে তাদের 20 বছর কারাদন্ডের আইন করুন। এটাই যথেষ্ট।
অপরাধ বিজ্ঞানী সিজার বেকারিয়ার মতে, ''হত্যা একটা অপরাধ। সমাজ হত্যাকে ঘৃণা করে। কিন্তু হত্যার শাস্তি হিসেব সেই হত্যাই যখন রাষ্ট্র ঠান্ডা মাথায় কোন হত্যাকারীর উপর আরোপ করে তখন সেই সমাজকে সভ্য সমাজ বলা যায় না। জীবন কেড়ে নেবার অধিকার হত্যাকারীরও নেই, হত্যার বিচারকার্য পরিচালনা করা রাষ্ট্রেরও নেই। 
পক্ষে যুক্তি: মৃত্যুদন্ডের ফলে শুধু হত্যাই নয়, অন্য যেসব অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান আছে সেই অপরাধগুলো সহজে করবে না অপরাধীরা। মৃত্যুদন্ড খুন করতে ইচ্ছুক মানুষদের একটা ভীতির মধ্যে রাখতে সমর্থ্য হয়। মৃত্যুদন্ড আইন বাতিল হলে অপরাধপ্রবণ লোকদের সাহস বেড়ে যাবে এবং তারা বড় ধরনের অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে।
বিপক্ষে যুক্তি: হত্যা হল সবচেয়ে বড় অপরাধ। যেখানে হত্যা করলেও হত্যাকারীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যায় না। সেখানে অন্যান্য অপরাধের জন্য ( ধর্ষন, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি ) মৃত্যুদন্ড দেয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। শুরুতেই বলেছি - ভয় দেখিয়ে কাউকে কোন কিছু করা থেকে বিরত রাখা যায় না। মৃত্যুদন্ড কখনোই খুন করতে ইচ্ছুক মানুষদের ভীতির মধ্যে রাখতে সমর্থ্য নয়। ঈংল্যান্ডে রানী প্রথম এলিজাবেথের সময় পকেটমারের শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড। জনসমক্ষে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সময় সেই ভীড়ের মধ্যে পকেটমারেরা তাদের কাজ করত। পকেটমারদের ফাঁসী অন্য পকেটমারদের মনে কোন ভয়ের সঞ্চার করত না। যদি মৃত্যুদন্ড জিঘাংসাপ্রবণ মানুষদের মনে ভয়ের সঞ্চার করতে পারত তবে মৃত্যুদন্ড থাকা দেশগুলোয় অপরাধের হার কম হত। কিন্তু দেখা গেছে যেসব দেশে মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে সেসব দেশেই সবচেয়ে বেশী খুন হয়। আর যেসব দেশে মৃত্যুদন্ড নেই বা আইন খুব কঠোর নয়, ওসব দেশে খুন তো দূরের কথা যেকোন অপরাধ নেই বললেই চলে ( ইউরোপের দেশগুলো )। মৃত্যুদন্ড উঠিয়ে দিলে অপরাধপ্রবন লোকদের অপরাধ করতে উৎসাহ বাড়বে - এ ধারণা একেবারেই ভুল। এর জ্বলন্ত উদাহরণ কানাডা। কানাডা 1976 সালে মৃত্যুদন্ড তুলে নেয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী কানাডায় খুনের হার 70% কমে গিয়েছে।
পক্ষে যুক্তি: বাংলাদেশের অতীতে বহু আলোচিত খুনী এরশাদ শিকদারের কথা কি আপনার মনে আছে প্রধাণমন্ত্রী ? সে ৬০ টি খুন করেছিল। ১ম ব্যক্তির হত্যাকান্ডের পর যদি তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হত তবে কি বাকি ৫৯ জন মানুষের জীবন রক্ষা পেত না ?
বিপক্ষে যুক্তি: এরশাদ শিকদারের ১ম খুনের পর তাকে মৃত্যুদন্ড না দিয়ে ২০ বছর কারাদন্ড দিয়ে রাখলেই হত। সে জেল থেকে বের হতেও পারত না, কাউকে মারতেও পারত না। 

খুনই হোক বা অন্য কোন অপরাধই হোক, অপরাধীকে বুঝাতে হবে যে - সে যেই কাজটা করেছে তা অন্যায়। অনেকে জেনেশুনেই অপরাধ করে। একটা কাজ খারাপ, অন্যায়, অপরাধ জেনেও সে এই কাজটা করে। এ ধরনের লোকদের বুঝিয়ে লাভ নাই যে কাজটা অপরাধ। তাছাড়া কিছু কাজ নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হলেও বিভিন্ন দেশের আইনে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত থাকে ( যেমন - ধর্ম সমালোচনা )। এসব ক্ষেত্রে আইন নিজেই অন্যায় আইন। যেহেতু আইনের দৃষ্টিতে কোন কাজ অপরাধ হলেই সেটা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ হয় না সেহেতু যেটা বুঝাতে হবে সেটা হল - কাজটা অন্যায়। কেন অন্যায় ? সেটার পিছনেও লজিক দেখাতে হবে। শাস্তিদানের চেয়ে বেশী জরুরী অপরাধীকে এটা বুঝানো যে, তার কাজটা করা ঠিক হয়নি। শাস্তি বা জেল দিলে হতে পারে, জেল থেকে বের হয়ে সে আবার একই কাজ করছে। এজন্য তাকে অনুতপ্ত করানোটা শাস্তি দানের চেয়ে বেশী জরুরী। একবার বুঝিয়ে সুঝিয়ে অনুতপ্ত করাতে পারলে অপরাধী এমনিতেই ভবিষ্যতে উক্ত অপরাধটি করা থেকে বিরত থাকবে। তখন অন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্ত দেখানো যাবে এই বলে যে - "তোমাদেরই একজন অপরাধ করে অনুতপ্ত হয়েছে, ভাল পথে ফিরে এসেছে। সে যদি পারে তবে তোমরা কেন পারবে না ?" দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে কখনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় না। অপরাধীকে তার কাজের জন্য অনুতপ্ত করানোই সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। সবচেয়ে বড় শাস্তি সেটাই, যেটা কখনোই দেয়া হয় না। না, আমি খুনী ধর্ষক এদের জেল দিতে মানা করছি না। এগুলো অনেক বড় অপরাধ। কিন্তু ছোটখাট অপরাধের ( যেমন - ব্যাঙ্ক ডাকাতি, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা চুরি, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদি ) জন্য শাস্তি কমিয়ে দিন। ছোটখাট অপরাধীদের অপশন দেয়া হোক। যেমন - ব্যাঙ্ক ডাকাতকে সময় দিবেন এক থেকে দেড় বছর। তার ডাকাতি করা সব টাকা ঐ সময়ের মধ্যে ফেরত দিলে আর জেল দেয়া হবে না। ফেরত দিতে না পারলে তখন জেল। আবার যদি কোন পুরুষ কোন নারীকে নির্যাতন ( শুধু শারিরীক ) করে বা কোন নারী কোন পুরুষকে নির্যাতন করে তবে তাকেও অপশন দিতে হবে - যাকে সে নির্যাতন করছে হয় তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা যাকে সে নির্যাতন করছে তার হাতে নির্যাতিত হতে হবে। নির্যাতনকারী যদি নির্যাতিত ব্যক্তিকে চড় থাপ্পড় মারে, তবে তাকেও নির্যাতিত ব্যক্তির চড় থাপ্পড় খেতে হবে। বেত্রাঘাত করলে, বেত্রাঘাত পেতে হবে। এরকম আরকি। যদি এই দুই অপশনে রাজী না হয় তখন জেল। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, শারিরীক নির্যাতনের শাস্তি শারিরীক নির্যাতন দিলে, খুনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিলে সমস্যা কি ? মৃত্যুদন্ড অনেক বড় বিষয়। খুনের বদলে মৃত্যুদন্ড দিয়ে খুন করা যায় না। কেউ কারোর চোখ উপড়ে নিলে রাষ্ট্র তার চোখ উপড়ে নিতে পারে না, কেউ এসিড নিক্ষেপ করলে রাষ্ট্র তাকে শাস্তি হিসেবে এসিড নিক্ষেপ করতে পারে না। কারণ, এগুলো ভয়াবহ। কিন্তু শারিরীক নির্যাতনের জন্য সমপরিমান শারিরীক নির্যাতন শাস্তি হিসেবে দেয়াই যায়। শারিরীক নিরর্যাতনের চেয়ে জেল অনেক ভয়াবহ শাস্তি। আমি শাস্তি কমানোর পক্ষে। কিছু কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর সাথে সেই কাজ করা মানায় যে কাজ করে সে অপরাধী হয়েছে। কিন্তু সব অপরাধের ক্ষেত্রে এটা মানায় না। বুঝাতে পেরেছি ? 


বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

নারীবাদ নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক

পৃথিবীতে প্রায় সকল খারাপের উৎস হল - পৌরষত্ব। এই যে ভার্সিটিতে Ragging হয়, জুনিয়রদের নিয়ে মজা করা হয়, কেন হয় ? কারণ Rag দেবার সময় সিনিয়রদের মনে হয়, ''আমি পুরুষ, আমি যা খুশি ইচ্ছা করতে পারি।'' কত ছাত্র শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে। ... তারপর বন্ধুমহলে একজন যদি সিগারেট না খায়, সবাই বলে, ''হালা, তুই মাইয়া মানুষ নাকি ? সিগারেট খা, পুরুষ হ।'' এমনকি এই যে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস এবং ধর্মীয় মৌলবাদের কারণে রক্তপাত এটার পিছনেও কোন না কোনভাবে পৌরষত্বই দায়ী।
নারীবাদ পৌরষত্বকে উস্কে দেয়, কিভাবে ? নারীবাদীরা বলে, ''পুরুষের সাথে নারী যেমন আচরণই করুক না কেন, পুরুষ কিছুতেই নারীকে অসম্মান করতে পারবে না। পুরুষকে নারী চড় মারলেও পুরুষ নারীকে চড় মারতে পারবে না, নারীর গায়ে হাত তুলতে পারবে না। যে পুরুষ নারীকে অসম্মান করে সে সত্যিকার পুরুষ নয়।'' এভাবে নারীবাদ পৌরষত্বকে উস্কানী দেয়। জন্মের পর একটা ছেলেকে শেখানো হয় - ''তুমি ব্যথা পেলে কাঁদতে পারবা না, একটা মেয়ে তোমাকে যতই অসম্মান করুক তুমি ঠিকই সবসময় সম্মান করবা; কারণ তুমি পুরুষ।'' পুরুষরাও যে মানুষ, সমাজ তা বুঝে না। পুরুষেরও ব্যাথা আছে, কষ্ট আছে। ব্যাথা সহ্য করে বা নারীর অপমান হজম করে সত্যিকার পুরুষ হবার কোন প্রয়োজন নাই, নারীকে পাল্টা অপমান করে হাফ লেডিস হওয়াটা অনেক বেশী সম্মানজনক। ভার্সিটির ragging, ক্লাসে বুলিং, ছাত্রলীগের মারামারি, বাসে আগুন দেওয়া, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ধর্মীয় উগ্রতা, পুলিশের লাঠিচার্জ সব খারাপের পিছনেই পৌরষত্ব ভূমিকা পালন করে। সমাজ থেকে খারাপকে দূর করতে হলে এবং নারীবাদের বিষবৃক্ষকে ধ্বংস করতে হলে সবার আগে পৌরষত্বের ভূত মাথা থেকে ছাড়াতে হবে। সত্যিকারের পুরুষ হবার চেয়ে ভাল মানুষ হওয়াটা কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ নয় ? এখন হয়ত অনেকে বলবে, ''পুরুষরা যদি সত্যিকার পুরুষ না হয় তবে সে ভাল মানুষও নয়।'' একেবারে ফালতু এবং অযৌক্তিক কথা। কোন বইয়ে লেখা আছে সত্যিকার পুরুষ না হলে ভাল মানুষ হওয়া যায় না ? যত্তোসব আজাইরা কথা। 
নারীকে কেন সবসময় সম্মান করতে হবে ? নারী মায়ের জাত বলে ? পুরুষও তো বাবার জাত ? বাবার চয়ে মায়ের মর্যাদা কেন বেশী হবে ? একটা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে সবার দরদ উথলে উঠে আর পুরুষ জাতিকে গালিগালাজ করতে করতে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে দেয়। আর যখন একটা ছেলে ধর্ষণের শিকার হয়, তখন কেউ তার জন্য দরদ দেখায় না বরং হাজার বছর ধরে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর নির্যাতনের কথা স্মরণ করে সবাই একটু খুশিই হয় - পুরুষও একটু নির্যাতিত হোক, নাকি ? ঐ ধর্ষিত পুরুষকে নিয়ে হাসাহাসি করে মেয়েরা তো বটেই, এমনকি ছেলেরাও। পুরুষের প্রতি নির্যাতনে পুরুষরাও সহানুভূতি অনুভব করে না। পুরুষরা ভাবে, ''ধর্ষিত বা নারীর দ্বারা লাঞ্ছিত পুরুষের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর মানেই হল পৌরষত্বহীনতার প্রতি সহানুভূতি দেখানো। আমরা পুরুষ। আমাদের মাঝে আছে পৌরষত্ব। আমরা যদি ঐ নারীর দ্বারা লাঞ্ছিত পৌরষত্বহীন পুরুষর প্রতি সহানুভূতি দেখাই, তাহলে সেটা আমাদের পৌরষত্বের জন্য অপমানজনক।''  ( আগেই বলেছি - পৌরষত্ব হল সকল খারাপের উৎস ) তাছাড়া, মেয়েরা নারীবাদী ছেলেদের বেশী পছন্দ করে। তাই নারীবাদী হলে নারীদের পটানো সহজ হয়। এজন্য অনেক ছেলে নারীবাদী হয়। 
পুরুষের সম্মান নারীর চেয়ে কোন অংশে কম নয়। নারী যদি পুরুষকে অপমান করতে পারে, চড় মারতে পারে। তবে পুরুষও নারীকে অপমান করতে পারে, থাপ্পড় মারতে পারে। নারী-পুরুষ সমান অধিকার। সঠিক ? যদি আপনার বাবা ধর্ষিত হত ! যদি আপনার ভাই ধর্ষিত হত, যদি আপনার বয়ফ্রেন্ড বা হাজবেন্ড ধর্ষিত হত, আপনার ছেলে ধর্ষিত হত ! তখন কেমন লাগত ? আগে মেয়েরা বলত, ''ঘরে মা বোন নাই ?'' এখন আমরা ছেলেরা বলছি, ''ঘরে বাপ ভাই নাই ?'' খুশি তো ? নারীবাদীদের কাজই তো হয়েছে পুরুষদের দুরবস্থা দেখে খুশি হওয়া। হাজার বছর ধরে পুরুষরা নারীদের শাসন বা শোষণ করছে বিধায় পুরুষদের উপর রাগ ক্ষোভ জন্মে গেছে, এখন পুরুষদের দুরবস্থা দেখে নারীবাদীরা খুশি হয়। পুরুষেরা হাজার বছর ধরে যা করে আসছে সেটা ভুলে যান, বাদ দিন। নারীবাদী মনোভাব ত্যাগ করুন। সবাই মানুষ। নারী নয়, পুরুষও নয় একজন মানুষ ধর্ষিত হয়েছে। নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে সহানুভূতি জানান। সবার উপর মানুষ সত্য, নারী নয়। 

নারী কোন পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই হল, যদি নারী পুরুষের অপরাধের প্রমাণ দিতে নাও পারে তবু সমাজে পুরুষটির মান সম্মান প্রতিষ্ঠা সব শেষ। অভিযুক্ত পুরুষ আর কোনদিন সমাজে মাথা উচু করে চলতে পারবে না। ভারতে যৌতুক ও ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে প্রতি বছর আশি হাজার পুরুষ আত্মহত্যা করে। ছেলেদের সম্মান তো নারীর হাতের মুঠোয়। নারী সম্মান করলেই পুরুষের সম্মান আছে, আর নারী অসম্মান করলে পুরুষের সম্মান নাই। ... এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।  জনসমক্ষে কোন মেয়ে কোন ছেলেকে চড় মারলে কেউ কিচ্ছু বলে না, সবাই মনে করে দোষ ছেলেরই ( বাস্তবে নিষ্পাপ হলেও )। কিন্তু যদি ছেলে মেয়েকে চড় মারে, গণধোলাই নিশ্চিত। .... বেশীরভাগ সময় যখন একটা মেয়ে একটা ছেলেকে মাইর দেয় তখন অন্যরা মেয়েটাকে রক্ষা করে এবং ভয় দেখায়, '' মেয়েটা তোকে মার দিলে তুই হজম করবি। যদি পাল্টা মার দিস, আমরা সবাই মিলে তোকে পিটাব।'' ভয়ে ছেলে চুপচাপ মার হজম করে। এটা কিভাবে সমানতা হল ? সমানতা তো তখন হবে যখন নারী-পুরুষের জনের ঝগড়ায় নাক না গলিয়ে 2 জনকে এককভাবে লড়তে দেয়া হবে। তখন দেখো কে জেতে ? কিন্তু সেটা কেউ করবে না। কারণ, জানে এরকম হলে ছেলে পিটিয়ে মেয়েকে তার বাপের থুড়ি মায়ের নাম ভুলিয়ে দিবে। আমি যেকোন ধরণের মারামারি বিরোধী। কে দোষী আর কে সেটা আদালত নির্ধারণ করবে, পুলিশ বা জনগণ নয়। কিন্তু আদালতও কেন জানি মেয়েদের পক্ষেই থাকে। নারীর হাতে পুরুষকে লাঞ্ছিত হতে দেখলে সবাই খুশি হয়। তবে তাই হোক। কোন ভালবাসা দরকার নাই, কোন প্রেমের দরকার নাই, কোন সন্তান উৎপাদন হবে না। নারী-পুরুষ মারামারি করে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাক। এটাই ভাল। যত্তোসব।

 নারীশাসিত সমাজে পুরুষেরা আজ নিপীড়িত, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত। যখন দেখবেন রাস্তায় কোন ছেলে কোন মেয়েকে বিরক্ত করছে, তখন মেয়েটাকে বিরক্ত হতে দিন। মেয়েটাকে বাঁচাতে যাবেন না। হতেও তো পারে মেয়েটা ছেলেটার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না বিধায় ছেলেটা তার টাকা ফেরত চাচ্ছে অথবা মেয়েটার মিথ্যা অভিযোগে সমাজে ছেলেটার সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ায় ছেলেটা মেয়েটাকে অনুরোধ করছে যেন মেয়েটা নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়ে ছেলেটাকে তার হারানো সম্মান ফিরিয়ে দেয়। এটা তো নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে, সবসময় বিরক্ত করাটা অপরাধ নয়, কখনো কখনো ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্ত হওয়াটাই অপরাধ।
এমনকি ভালবাসার দাবী করে কোন মেয়েকে বিরক্ত করাটাও অপরাধ নয়। প্রায়ই এরকম দেখা যায়, কোন মেয়ে কোন ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে প্রথমে সাড়া না দিলেও, ছেলেটা বারবার ভালবাসা চাওয়ায় মেয়েটা বিরক্ত হতে হতে একসময় ঠিকই ভালবেসে ফেলে। একবার যখন মেয়েটা ভালবেসে ফেলে, তখন আর কেউ এটা দেখে না যে ছেলেটা কোন একসময় মেয়েটাকে বিরক্ত করত কিনা। অর্থাৎ মেয়েটা ভালবাসল কিনা, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলের বিরক্ত করাটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না, এটা কোন বিষয়ই না। কাজেই, কোন ছেলে যদি কোন মেয়ের কাছে ভালবাসা চেয়ে চেয়ে মেয়েটাকে অনেক বিরক্ত করে শেষ পর্যন্ত ভালবাসা পেতে ব্যর্থ হয়, তবে ছেলেটাকে খারাপ ভাবার কোন দরকার নাই। কেন খারাপ ভাবব না উত্যক্তকারী ছেলেটাকে ? কারণ - যদি ছেলেটা উত্যক্ত করে মেয়েটার ভালবাসা অর্জন করতে সফল হত ( অনেকেই হয় ), তখন তো আমরা ছেলেটাকে খারাপ ভাবতাম না। এখন ছেলেটা ভালবাসা পেতে, মেয়েটার মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আপনারা তাকে খারাপ ভাববেন ? এটা কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত ? ব্যর্থতার জন্য কাউকে খারাপ ভাবা যায় না। এখন হয়ত বলবেন - খারাপ ভাবছি উত্যক্ত করার জন্য। তখন আমি বলব, উত্যক্ত করে যদি সফল হলে তো ছেলেটাকে খারাপ ভাবতেন না। ... এবার কি বলবেন ? ...
আমার পরামর্শ হল, আইন করে দেয়া হোক - ভালবাসা চেয়ে একটা ছেলে একটা মেয়েকে সর্বোচ্চ একশবার অনুরোধ বা বিরক্ত করতে পারবে। অনুরূপভাবে একটা মেয়েও ভালবাসা চেয়ে একটা ছেলেকে সর্বোচ্চ একশবার অনুরোধ ( বিরক্ত ) করতে পারবে। যদি অনুরোধ একশবারের চেয়ে বেশী হয়, শুধুমাত্র তখনই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একশবার পর্যন্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আর ভালবাসা বাদে অন্য কোন উপযুক্ত কারণে যতবার খুশি ততবার বিরক্ত করা যাবে। By the way, বুলিং এর পিছনে কোন কারণ থাকে না। তাই বুলিং একবার করলেও অপরাধ।
নারীবাদী কার্যক্রম সবচেয়ে বেশী দেখা যায় বাসের মধ্যে। মহিলাদের জন্য কোন সংরক্ষিত সিট কেন থাকবে ? প্রতিবন্ধী ছাড়া কারোর জন্যই সংরক্ষিত সিট থাকা উচিত না। আর যদি কারোর কোলে শিশু থাকে তখন তার জন্য সংরক্ষিত সিট রাখা যায়। শিশু শুধু মায়ের কোলে থাকে না, বাবার কোলেও থাকে।
নারীবাদ এটা বলে না যে নারী-পুরুষ সমান শক্তিশালী, তাই তাদের অধিকার সমান হওয়া উচিত। নারীবাদ বলে - যেহেতু নারীরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল তাই তারা পুরুষের চেয়ে বেশী অধিকার deserve করে।
সেদিন আমি সিট ছেড়ে উঠে যাবার পর সিটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণীতে পড়া স্কুল বালককে বসতে না দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েকে ডেকে এনে বাসানোর মানে কি ? মানে এটাই যে - নারীদের দুর্বল ভাবা এবং ছেলেদের চেয়ে বেশী সুবিধা দেয়া।
এটা অন্যায়। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বিন্দুমাত্রও বেশী সুবিধা, বেশী অধিকার দেয়া যাবে না। কেবলমাত্র যৌন হয়রানি ছাড়া অন্য কোন কারণে, মৌখিক ঝগড়ার জের ধরে কোন মেয়ে কোন ছেলের গায়ে হাত তুলতে পারবে না বা চড় থাপ্পড় মারতে পারবে না। কথার জবাব কথা দিয়েই দিতে হবে। আর যদি কোন মেয়ে কোন ছেলেকে চড় মেরেই বসে, তবে ছেলেকেও সুযোগ দিতে হবে। মেয়েটাকে চড় মারার সুযোগ। তবেই না সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাধে কি আমি নারীবাদের বিরোধীতা করি ? উপযুক্ত কারণ আছে বলেই বিরোধীতা করি। নারীদেরও নারীবাদের বিরোধীতা করা উচিত। পুরুষেরা পৌরষত্ব ছাড়ুন, নারীরা নারীত্ব ছাড়ুন। আসুন, সবাই মিলে মানুষ হই।